নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনাবেচার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য ও এক আনসার সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. শরিফ একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী। ভাষানটেক এলাকার পরিচিত আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। গত শনিবার রাতে সোহেলের কথামতো একটি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে শরিফ মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি ফ্ল্যাটে যান।
ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর কিছু সময় পর ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানা করে সোহেল বাইরে চলে যান। এর পরপরই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী এবং সোনিয়া নামের এক নারী। তারা ব্যবসায়ী শরিফকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখান এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
প্রাথমিকভাবে জীবন বাঁচাতে শরিফ তার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা তুলে দেন। তবে এতে ক্ষান্ত না হয়ে অভিযুক্তরা তাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং আরও বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করতে থাকেন।
যেভাবে উদ্ধার পেলেন ভুক্তভোগী
পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা জোগাড় করার চেষ্টার একপর্যায়ে রাত পৌনে তিনটার দিকে তাকে জোর করে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তোলা হয়। গাড়িটি শ্যামলীর শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে থামলে অভিযুক্তরা চা খাওয়ার জন্য নিচে নামেন। এই সুযোগে শরিফ গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে পড়েন এবং সেখানে টহলরত শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শিশুমেলা এলাকার নিয়মিত চেকপোস্টে রাত পৌনে তিনটার দিকে ওই ব্যবসায়ী গাড়ি থেকে নেমে সহায়তা চান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। যেহেতু মূল অপরাধের সূত্রপাত মোহাম্মদপুর থানা এলাকায়, তাই পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আইনগত ব্যবস্থা
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শরিফ বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড