বিশেষ প্রতিবেদক:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ঠিকাদারের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছর তিন মাসে ডিএনসিসি মোট ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বণ্টন করেছে। এর মধ্যে কেবল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানই বাগিয়ে নিয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার কার্যাদেশ।
সংস্থাটির টেন্ডার ও কার্যাদেশ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই অস্বাভাবিক সুবিধা পাওয়ার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহ-সভাপতি ও বিতর্কিত ঠিকাদার আবদুল হাই। গত জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মুখে তিনি ভারতে আত্মগোপন করেন। তবে দেশ ছাড়ার পূর্বেই তিনি একা ডিএনসিসি থেকে প্রায় ৩০২ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিযোগিতা এড়িয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে এসব বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আবদুল হাই ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও চার প্রভাবশালী নেতার প্রতিষ্ঠান বাকি ৫০০ কোটিরও বেশি টাকার কাজ ভাগিয়ে নেয়। ফলে সাধারণ ও উন্মুক্ত ঠিকাদারদের প্রতিযোগিতা থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিএনসিসির এই মোটা অঙ্কের কার্যাদেশ বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে সুশীল সমাজ ও নগর বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এসব বিতর্কিত ও অসম কার্যাদেশের বিষয়ে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জোর আলোচনা চলছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড