বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোতে ছিনতাইয়ের নতুন ও নৃশংস এক কৌশলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্ধকার রাস্তায় দুই পাশের রেলিংয়ে শক্ত ও ধারালো নাইলনের সুতা টানিয়ে মোটরসাইকেল চালকদের ফাঁদে ফেলছে ছিনতাই চক্র। দ্রুতগতির বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় সুতায় আঘাত পেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন চালকরা। চালক মাটিতে লুটিয়ে পড়ামাত্রই অস্ত্রধারী অপরাধীরা তাদের ঘিরে ধরে টাকা-পয়সা, মোবাইল ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিচ্ছে। এই প্রাণঘাতী কৌশলে দিনে দিনে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্লাইওভারের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ—বিশেষ করে যেসব স্থানে সড়কবাতি নষ্ট বা পর্যাপ্ত আলো নেই, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। তারা ফ্লাইওভারের দুই পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে শক্ত ও ধারালো নাইলনের মোটা সুতা বেঁধে রাখে।
দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় চালকরা সুতাটি দেখতে পান না। সুতাটি কপাল, গলা কিংবা বুক বরাবর আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে সুতা গলায় পেঁচিয়ে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়। চালক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকার মুহূর্তেই চারপাশে ওঁৎ পেতে থাকা ৫-৭ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী এসে মানিব্যাগ, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে চম্পট দেয়।
সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে একাধিক ভুক্তভোগী এ ধরনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা ছড়াচ্ছে বাইকাররা।
‘দ্য ইউসুফ শো’ নামের একটি পেজ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, “বাইকার ভাইরা সাবধান! ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও হানিফ ফ্লাইওভারে চরম আতঙ্ক ‘সুতা ডাকাতি’।”
অন্য এক ভুক্তভোগী আল ওয়ালিউর রহমান ফেসবুকে নিজের ও পরিচিতদের সঙ্গে ঘটা রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখেন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের ওপর সায়েদাবাদের দিকে একই স্থানে একের পর এক বাইকার ধারালো নাইলনের সুতায় কেটে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হেলমেট ও গ্লাভস পরা থাকা সত্ত্বেও তার হাত কেটে ক্ষতবিক্ষত হয়।
নগরীর একাধিক ফ্লাইওভারে একই কৌশলে একের পর এক দুর্ঘটনা ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ বাইকার ও মোটরসাইকেল রাইডারদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও বাইকাররা দ্রুত ফ্লাইওভারের সব নষ্ট সড়কবাতি মেরামত, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গভীর রাতে পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড