নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশে দিন দিন সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে তাজা ফলের বাজার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাজা ফল কেনাকে এখন বিলাসিতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সরকারের আমদানি শুল্ক ও কর বৃদ্ধির ফলে এ খাতে রাজস্ব আয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
উচ্চ শুল্ক-কর ও আকাশছোঁয়া দাম
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছরে আপেল, মাল্টা, আঙুর ও নাশপাতির ওপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে তাজা ফল আমদানিতে শুল্ক-করভার রাখা হয়েছে 'বিলাসদ্রব্য' ক্যাটাগরিতে। ফলে আমদানিকৃত ফলের দাম পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
বিদেশি ফলের প্রভাবে দেশি ফলের বাজারও গরম
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, বিদেশি ফলের দাম অতিরিক্ত বাড়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশি ফলের বাজারেও। বিদেশি ফলের বিকল্প হিসেবে দেশি ফলের চাহিদা বাড়ায় দেশি ফলের দামও লাফিয়ে বেড়েছে।
রাজস্ব বাড়লেও ভুগছে ভোক্তারা
ফল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে ট্যারিফ কমিশন মনে করে, এ ব্যবস্থার কারণে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ফলের সহজলভ্যতা কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে ফল বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ
গত ২১ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে ফলের চড়া দাম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর গত ৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। এরপরই ট্যারিফ কমিশনকে শুল্ক-করকাঠামো ও বাজার দর পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশমূলক প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, ফলের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কাজ চলছে। তবে এ মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানাননি।
আমদানিকৃত ফলের অতিরিক্ত শুল্ক হ্রাস এবং স্থানীয় ফল বিপণন ব্যবস্থার তদারকি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের জন্য ফল খাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।