Logo
প্রিন্টের তারিখ: 30 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 31, 2026

সংবাদ শিরোনাম : হামলা না করার শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

হামলা না করার শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব


​আন্তর্জাতিক desk: ইয়েমেনের হুথিদের সাথে চলমান সংঘাত নিরসন ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাসে ইরান সফর করেছেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। একই সাথে অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক পরাশক্তি ও মিত্রদেশগুলো নিয়ে তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

​প্রতিবেদনে এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে ১০০ কোটি ডলার অর্থ তেহরানে নিয়ে আসেন। তবে অর্থ হস্তান্তরের এই বিষয়টি কোনো সৌদি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।

​তেহরান বৈঠকে আঞ্চলিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ক্রমাগত হামলার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ইরান এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। তেহরানে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন:

  • ​তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন
  • ​পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনীর
  • ​ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
  • ​ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই
  • ​ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ

​উল্লেখ্য, 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট' এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মূলত গত সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময়ই এই কূটনৈতিক বৈঠকের রূপরেখা তৈরি হয়।

​সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য

এই সফরের বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সরকারি বিবৃতিতে জানায়, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরটি বর্তমান সংকটের পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার অংশ। পাশাপাশি এটি কাতার রাজ্য ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের পরিচালিত মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য ন্যাটো-রীতির এই জোটের চলমান প্রচেষ্টারই একটি ধাপ।’

​সমঝোতা ও দ্বিপাক্ষিক অবস্থান

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের তথ্য নিশ্চিত না করলেও জানান, তিন বছর আগে দুই পক্ষের মধ্যে পৌঁছানো সমঝোতা বাস্তবায়নেই সংঘাতের মূল কারণ নিহিত।

​ঐ সমঝোতা অনুযায়ী, হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সৌদি আরবের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা ছিল, যার বিনিময়ে হুথিরা তাদের হামলা বন্ধ রাখবে।

​তবে হুথিরা পরবর্তীতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলে। অন্যদিকে সৌদি আরবের স্পষ্ট অবস্থান—তারা কোনো ধরনের সামরিক ব্ল্যাকমেইলের মুখে নতুন করে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে যাবে না।

​ইরানের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব কিংবা সি-১৩০ বিমানে অর্থ বহনের দাবিটি স্বাধীন কোনো সূত্রে এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF