Logo
প্রিন্টের তারিখ: 30 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 31, 2026

সংবাদ শিরোনাম : প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি সংস্কার, ৭ দিনও টিকল না সড়ক

প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি সংস্কার, ৭ দিনও টিকল না সড়ক


​নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সংস্কার করা মহাসড়কের পিচ ও সিমেন্টের ব্লক সাত দিনও টেকেনি। নিম্নমানের কাজ ও তদারকির অভাবে পিচ উঠে এবং ব্লক ভেঙে সড়কটি আবার গর্তে রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও কাজের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকরা।

​রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের প্রায় দুই কিলোমিটারে এ চিত্র দেখা গেছে।

​সাত দিনেই বেহাল দশা

​গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তার আগের চার দিন ধরে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়। পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে সেখানে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই এই দ্রুতগতির সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয়রা। মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তাদের সেই আশঙ্কা সত্যি হলো।

​শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কার করা কয়েকটি অংশে নতুন বসানো ব্লক ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে। পিচের প্রলেপ উঠে তৈরি হয়েছে পুরোনো গর্ত। ফলে একই অংশে আবারও নতুন করে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করতে হয়েছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ

​স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের নামে চলছে লোকদেখানো কাজ। হাজীপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী রাকিব ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের কারণে কয়েকদিন আগেই বসানো ব্লক ভেঙে গেছে। স্থায়ী ও মানসম্মত সংস্কার না করে বারবার এ ধরনের খণ্ডকালীন কাজ করার রহস্য কী, সেটাই বোধগম্য নয়।’

​বাসচালক আব্দুর রশিদ জানান, নিম্নমানের কাজের কারণেই সামান্য বৃষ্টি ও গাড়ির চাপে সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত এই অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, তাই টেকসই সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

​আগের অনিয়মের ছায়া

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মহাসড়কে সংস্কারকাজের মান নিয়ে এর আগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় পায় রাজশাহীর ‘ডন এন্টারপ্রাইজ’।

​সে সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতি বর্গমিটারে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ৫ কেজি পাথর কম ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, যা টহলরত সেনাবাহিনীর একটি দল শনাক্ত করেছিল। ওই সময় কাজ শেষ হওয়ার আগেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

​সওজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​বারবার সংস্কারের পরও সড়ক টেকসই না হওয়ার বিষয়ে রংপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা বলেন, ‘কাজ করছি, আবার উঠে যাচ্ছে; ইট ভেঙে ব্লক দিচ্ছি, তাও ভেঙে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এমন হচ্ছে। মূল সমস্যা হলো এই সড়কের নিচের ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। তাই ওপর থেকে যতই প্রলেপ দেওয়া হোক না কেন, এটি টিকবে না। সড়কটি নতুন করে পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ করা ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF