নিজস্ব প্রতিবেদক
তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬
চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম শক্তিশালী ঝড় ও সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’ তাইওয়ানে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর পর কিছুটা দুর্বল হতে শুরু করেছে। তবে এর প্রভাব এখনো কাটেনি। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এখনো ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) বেগে দমকা হাওয়া বইছে।
শনিবার ভোরে ইলান কাউন্টির উত্তর-পূর্ব উপকূল ছুঁয়ে যাওয়া ঝড়টি বর্তমানে তাইওয়ান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার (১০৬ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছে।
তাইওয়ানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত
মধ্যরাতের দিকে ঝড়ের কেন্দ্র দক্ষিণে মোড় নিয়ে ইলানের উপকূল ঘেঁষে এগোয় এবং পরবর্তীতে উপকূলের বাইরে বিরল পাক খেয়ে উত্তরে সরে যায়। এই সময় কিছু উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়ার তীব্রতা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত (১৪১ মাইল) রেকর্ড করা হয়। বাতাসের তীব্রতায় অনেক এলাকার বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং উড়ে গেছে ঘরের ছাদসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র।
রাজধানী তাইপেতে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তাইপের ৭০ বছর বয়সী বাসিন্দা টমাস ওয়াং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, "ঝড়টি যেন কোনো পোল্টারজিস্ট হরর ছবির মতো মনে হয়েছে।"
ইলানের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লিন আতঙ্কিত কন্ঠে বলেন, "মধ্যরাতই ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এটি ছিল এক নির্ঘুম রাত, বহু বছর এমন কিছু দেখিনি।"
ঝড়ের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লিউকিউ দ্বীপে প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে এক পুরুষ মারা যান। এ ছাড়া প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে আহত হয়েছেন ৫২৭ জন।
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইপাওয়ার জানায়, ঝড়ের কবলে পড়ে অন্তত ২ লাখ ৮৮ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। তবে এর মধ্যে বেশির ভাগ এলাকার সংযোগ পুনরায় সচল করা হয়েছে। অন্যদিকে, পরিবহন ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার প্রায় ১ হাজার ফ্লাইটের পাশাপাশি আজও ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সরকার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে।
চীন ও জাপানের প্রস্তুতি
তাইওয়ান অতিক্রম করে টাইফুনটি এখন উত্তর দিকে মোড় নিয়ে চীনের উপকূল ঘেঁষে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ জাপানে প্রবেশ করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চাম্পির সম্ভাব্য আঘাত হানার আশঙ্কায় চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে বিশেষ দল পাঠিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত সেখানে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪০০ উদ্ধারকর্মী, ৬০০ বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৪১ হাজারেরও বেশি দমকলকর্মীকে জরুরি প্রস্তুতাবস্থায় রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে ৩ হাজার ৮০০-র বেশি মাছ ধরার নৌকা নিরাপদে বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। উপকূলের বাইরের মাছ চাষের শ্রমিকদের তীরে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দ্বীপটিতে আটকে থাকা ২ হাজার ৮৪ পর্যটককে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উপকূলীয় এলাকার ২৫টি নির্মাণ প্রকল্প এবং ১৮টি যাত্রীবাহী ফেরি রুট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।