Logo
প্রিন্টের তারিখ: 30 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 31, 2026

সংবাদ শিরোনাম : আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

বিশেষ প্রতিনিধি | প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬

​সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

​সড়ক নিরাপত্তাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

​কর্মসূচি ও বিশেষ উদ্যোগ

​দিবসটি উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

  • ​চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা: পেশাদার গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য, চক্ষু ও মাদক পরীক্ষা পরিচালনা।
  • ​সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ম্যারাথন আয়োজন।
  • ​অবকাঠামো সংস্কার: সড়কের সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দক্ষ চালকদের পুরস্কৃত করা।

​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’

​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর কাজ করা হচ্ছে—

১. নিরাপদ সড়ক

২. নিরাপদ যানবাহন

৩. নিরাপদ গতি

৪. নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী

৫. দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা

​অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চালকদের প্রশিক্ষণ

​সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের নিরাপত্তায় কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ১৪০ কিলোমিটার মহাসড়কে সেফটি ইমপ্রুভমেন্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।

​একই সঙ্গে, পেশাদার চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​দ্রুত চিকিৎসা ও প্রযুক্তি নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

​দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে ৪০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স এবং ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হচ্ছে।

​নতুন আইন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত

​সড়ক নিরাপত্তাকে আইনি কাঠামোয় আনতে প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ এবং গঠন করা হচ্ছে একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে 'স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন' এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে 'স্পিড ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল' প্রণয়ন করা হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞদের অভিমত

​সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং সারা বছর সচেতনতামূলক কার্যক্রম বজায় রাখা জরুরি। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং সড়ক ব্যবহারে সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতাই পারে কার্যকর পরিবর্তন আনতে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF